সর্বশেষ সংবাদ

ওয়েব কি একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন দানব’?

৩০ বছর আগের মার্চ মাসে একজন ব্রিটিশ সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিজ্ঞানীদের জন্য তথ্য আদানপ্রদানের এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে গোটা মানবসমাজের ইতিহাসই পালটে দেয়৷ এটি এখন পরিচিত ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’ নামে৷

নিউজ ২১ ডেস্ক ঃ তিনযুগ পর এসে এর উদ্ভাবক টিম বার্নার্স-লি বলছেন, তাঁর সৃষ্টি ধোঁকাবাজরা ছিনতাই করেছে, যা গোটা ব্যবস্থাটিকেই এখন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে৷

সুইজারল্যান্ডের জেনেভার কাছে অবস্থিত সার্ন ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব উদ্ভাবন করেছিলেন বার্নার্স-লি৷ তবে সেখানে যে ইতিহাস তৈরি হয়েছিল তা ধরে রাখার জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেই৷ আছে শুধু ছোট্ট একটি স্মারক ফলক, আর দরজায় সাঁটানো আছে সার্ন-এর পুরনো ডিরেক্টরির একটি পাতা৷

বার্নার্স লি ১৯৯৪ সালে সার্ন ছেড়ে ‘ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউ অব টেকনোলজি’তে যোগ দেন৷ এরপর সার্ন-এর ল্যাবের দায়িত্ব পান ফ্রঁসোয়া ফ্লুকিগার৷ বার্নার্স লি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘টিম ভীষণ পরিশ্রম করতেন৷ তার ঘরে সবসময়ই আলো জ্বলতো৷”

বার্নার্স লির লক্ষ্য ছিল এমন এক ব্যবস্থা চালু করা, যার সাহায্যে ল্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার বিজ্ঞানী তাঁদের কাজ আদানপ্রদান করতে পারবেন৷ সেখান থেকেই ওয়েব ব্যবস্থার জন্ম৷ কম্পিউটারের মধ্যে নেটওয়ার্ক যোগাযোগের পদ্ধতি চালু থাকলেও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবই ব্রাউজার দিয়ে ওয়েবপেজগুলোতে ঢোকার ব্যবস্থা করেছিল৷

‘‘আমরা ইতিহাস নির্মাণ করতে যাচ্ছি, শুরু থেকেই আমাদের মধ্যে এমন একটি ধারণা ছিল”, বলেন ফ্লুকিগার৷ ১৯৯০ সালে বেলজিয়ান বিজ্ঞানী রব্যায়ার কাইয়ু এই উদ্ভাবনকে আরো এগিয়ে নেন৷ তিনি ওয়েবপেজ তৈরির মানদণ্ড ‘হাইপারটেক্সট মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ’ বা এইচটিএমএল উদ্ভাবন করেন৷

এছাড়া তাঁরা ‘হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকল’ বা এইচটিটিপি এবং ‘ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর’ বা ইউআরএল’ও উদ্ভাবন করেছিলেন৷

বার্নার্স লি ১৯৯০ সালে সার্ন-এর প্রথম ওয়েব নেভিগেটর সার্ভারটি চালু করেন, যা সার্ন-এর বাইরে ১৯৯১ সালে অবমুক্ত করা হয়৷ প্রথমে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরে সাধারণ মানুষের কাছে তা পৌঁছে গিয়েছিল৷

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের উদ্ভাবনকে ২০ শতকের তিনটি প্রধান আবিষ্কারের একটি বলে মনে করেন ফ্লুকিগার৷ কিন্তু অনলাইনে হয়রানি, ভুয়া খবর, ‘ম্যাস হিস্টেরিয়া’ আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মখে পড়ায় তিনি হতাশ৷ তাঁর মতে, এখনই কোনো উদ্যোগ না নেয়া হলে শেষ পর্যন্ত এটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এক দানবে পরিণত হবে৷

একই মত বার্নার্স লিরও৷ ‘ওয়েব বাঁচাও’ শিরোনামে তিনি নিজস্ব সচেতনতামূলক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছেন৷ গত নভেম্বরে লিসবনের ওয়েব সম্মেলনে ওয়েবের জন্য নতুন চুক্তির আহ্বান জানান তিনি, যার মাধ্যমে সবার জন্য ওয়েব ব্যবহার নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মৌলিক অধিকারের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা যাবে৷

 ‘‘ওয়েব ধোঁকাবাজ আর দানবদের হাতে চলে গেছে৷ সারা বিশ্বজুড়ে মানুষকে প্রতারিত করতে এটি ব্যবহার করছে,” ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা এক প্রবন্ধে এমন মত প্রকাশ করেছেন বার্নার্স-লি৷

এখানেই ক্ষান্ত থাকেননি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক হিসেবে পরিচিত বার্নার্স-লি৷ দাভোসে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’এর সম্মেলনে অনলাইন নিয়ে বিতর্কেও অংশ নেন তিনি৷ তিনি এমন একটি আলোচনার প্লাটফর্ম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন, যেটি বিভিন্ন মতের মানুষদের যুক্ত করবে৷

প্রতি মুহুর্তের খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*